img
সাউ পেরিলা রপ্তানির সম্ভাবনা

পরীক্ষামূলকভাবে গত বছর অল্প জমিতে বিদেশি সাউ পেরিলার চাষ ও ঘানিতে তেল উৎপাদনে সাফল্য পেয়েছিলেন সৈয়দ রোকনুজ্জামান। এবার ১২ একর জমিতে চাষ করেছেন। দেশে যেসব স্থানে সাউ পেরিলার চাষ হচ্ছে, তার মধ্যে একসঙ্গে সবচেয়ে বেশি চাষাবাদ করেছেন তিনি। রোকনুজ্জামান কাহারোল উপজেলার মুকুন্দপুর সুন্দইল গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বোচাগঞ্জ উপজেলার বড় সুলতানপুর গ্রামে সাউ পেরিলা-১ চাষ করছেন।

জানা গেছে, বাড়তি পুষ্টিগুণসম্পন্ন ভোজ্যতেল উৎপাদনে কয়েকটি দেশে সাউ পেরিলা জনপ্রিয়। ভোজ্যতেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকায় এ ফসল চাষে আশা দেখছেন সংশ্নিষ্টরা। তেলের সঙ্গে মধু উৎপাদনের সম্ভাবনার কথা বলছেন মৌ-চাষিরা।

কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, পেরিলা তেল দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, জাপান, থাইল্যান্ড, ভারত এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশে ব্যবহার হয়। ২০২০ সালে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুকূলে এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক সাউ পেরিলা-১ (গোল্ডেন পেরিলা বিডি) নামে দেশে প্রথম পেরিলার জাত নিবন্ধিত হয়। এর তেল হৃদযন্ত্র, মস্তিস্ক, ত্বক ও ডায়াবেটিস প্রতিরোধ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়। হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং ঝুঁকিও কমায়।

২০২০ সালে ১৪ জেলায় পরীক্ষামূলক চাষ হয় সাউ পেরিলা। গত বছর ৫০ জেলায় বাণিজ্যিক চাষ হয়। এ বছর যুক্ত হয়েছে দিনাজপুরের নাম। পেরিলার তেল আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি লিটার দুই থেকে আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি হয়। সরিষা ভাঙার মেশিনে তেল উৎপাদন সম্ভব। পানি জমে না- এমন উঁচু জমিতে এর ফলন ভালো হয়। বেলে দো-আঁশ ও দো-আঁশ মাটি বেশি উপযোগী।

পেরিলা গবেষক মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম মজুমদারের কাছ থেকে বীজ নিয়ে চাষ শুরু করেন সৈয়দ রোকনুজ্জামান। তিনি জানান, গত বছর তিন একর জমিতে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কেজি পেরিলাবীজ পান। এর মধ্যে ১৫ কেজি এবার রোপণ করেছেন। একাংশ নিয়েছে ঢাকার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। কিছু বীজ দিয়ে তেল করেছেন। দক্ষিণ কোরিয়ায় কিছু অংশ পাঠিয়েছেন। তারা চলতি বছরও বীজ সংগ্রহ করে কেনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে।

সৈয়দ রোকনুজ্জামান বলেন, এবার ১২ একর জমিতে পেরিলা চাষাবাদে প্রায় ৬ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। বীজ বোনা থেকে ঘরে তোলা পর্যন্ত সাড়ে তিন মাস সময় লাগে। এবার ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা পাওয়ার আশা করছেন তিনি। বীজের পাশাপাশি তেল বিক্রিরও সম্ভাবনা আছে। তবে বিদেশে বীজের চাহিদা বেশি। এতে ওমেগা-ত্রি'র পরিমাণ বেশি থাকে।

পেরিলা ফুল থেকে মধু সংগ্রহেরও ভালো সম্ভাবনা দেখছেন মৌ-চাষিরা। পরীক্ষামূলকভাবে তিনটি মৌ-বাক্স স্থাপন করেছেন মোসাদ্দেক হোসেন। তিনি বলেন, শেষ সময়ে বাক্স বসিয়ে ২০ কেজির মতো মধু পেয়েছেন। পেরিলা ফুল থেকে যে মধু পাওয়া গেছে, তা ল্যাবে টেস্ট করার জন্য পাঠানো হয়েছে। মান ও গুণ ভালো থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে বড় আকারে মধু সংগ্রহের উদ্যোগ নেবেন।

রোকনুজ্জামানের ক্ষেতটি পরিদর্শন করেছেন সাউ পেরিলা গবেষক এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের লেবুজাতীয় ফসলের সম্প্রসারণ ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক আবদুল কাইয়ুম মজুমদার। তাঁর সঙ্গে দিনাজপুর অঞ্চলের তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের তদারকি কর্মকর্তা সারওয়ার আলম এবং নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের কৃষি কর্মকর্তা তুষার কান্তি ও বোচাগঞ্জের কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আরিফ আফজাল উপস্থিত ছিলেন।

আরিফ আফজাল বলেন, উন্নত দেশগুলোয় সাউ পেরিলার চাহিদা রয়েছে। বোচাগঞ্জের ১২ একর জমিতে ফলন বেশ ভালো। সাউ পেরিলাচাষিকে সবসময় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ ফসল সম্প্রসারণে কৃষি কর্মকর্তারা কাজ করছেন।

পেরিলা গবেষক মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম বলেন, দেশের সব অঞ্চলেই পেরিলার পরীক্ষামূলক চাষ হয়েছে এবং ভালো ফলাফল এসেছে। ফলনও ভালো। ফসলটিকে তেলজাতীয় প্রকল্পে যুক্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ ও সার দেওয়া হবে ব্যাপকভাবে আবাদের জন্য। বিদেশে এর প্রচুর চাহিদা রয়েছে। পেরিলা আবাদে বর্ষাকালেও মধু পাওয়া সম্ভব, যা এখন তেমন মেলে না।

নিউজ লিংক: https://samakal.com/whole-country/article/139906/

সমকাল/ বিপুল সরকার সানি, দিনাজপুর

 প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২২ | ১২:০০